বিসিএস রিটেনের প্রস্তুতি (BCS written preparation )

আমি যেভাবে রিটেনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম

৩৮ আমার প্রথম বিসিএস ছিলো। যা পড়াশুনা করছি ওই ৩৮ এর সময়ই। ৪০ এ পড়ার সময়ই পাই নাই। আমি চেষ্টা করেছিলাম প্রিলির রেজাল্টের আগে ম্যাথ আর বিজ্ঞান শেষ করতে।
#গনিত: ৯-১০ এর সাধারণ + উচ্চতর গনিত চ্যাপ্টার ধরে ধরে শেষ করতাম। উদাহরণ, কাজ, অনুশীলনী সব করতাম। ১১-১২ এর বিন্যাস, সমাবেশ, সম্ভাব্যতা, সরলরেখা করতাম। আর অ্যাসিউরেন্স ডাইজেস্ট থেকে বৃত্ত, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ থেকে ২০-২৫ টা জ্যামিতি পড়েছিলাম। ম্যাথের জন্য কোন গাইড বই দরকার নাই।
#মানসিক_দক্ষতা: বিগত বছরের প্রশ্ন + ওরাকল + অ্যাসিউরেন্স ডাইজেস্ট দেখেছিলাম।
#ইংরেজি: এই অংশে ভালো করার জন্য প্রচুর প্রাকটিস প্রয়োজন। আমার মনে আছে, ৩৮ এর সময় assurance এর বইতে ২৫ টি passage এর সবগুলো করেছিলাম। আর ট্রান্সলেশন + রিট্রান্সলেশন এর জন্য প্রতি মাসের সম্পাদকীয় থেকে অনুশীলন করতাম। সাথে assurance + ক্যাডার'স অনুবাদবিদ্যা বই থেকে প্রাকটিস করতাম। প্রায় ৫০ টা ট্রান্সলেশন আর ৫০ টা রিট্রান্সলেশন করে গেছিলাম। এক্সামের ডেট দেওয়ার পর রচনা গুছিয়েছিলাম। তবে তখন গ্রুপ থেকে প্রচুর হেল্প পেয়েছি। বড় ভাই+আপুরা রচনা নোট করে গ্রুপে পিডিএফ দিতেন। আমাদের কাজ ছিলো প্রিন্ট করে পড়ে ফেলা।
#বাংলা: ব্যাকরণ অংশ ভালো করে প্রিপারেশন নিলে ২৭-২৮ পাওয়া অসম্ভব কিছু না। বাগধারা, বাক্য শুদ্ধি, বাক্য পরিবর্তন, বাংলা বানানের নিয়ম, শব্দ গঠন এগুলো যে কোন একটা বই থেকে পড়ে ফেলবেন। বাগধারা পড়েছিলাম সম্পাদকীয় বিশেষ সংখ্যা থেকে। বাকিগুলো প্রফেসর আর অ্যাসিউরেন্স ডাইজেস্ট দেখেছিলাম। সাহিত্য + দরখাস্ত + কাল্পনিক সংলাপ এ দুটো বই থেকে দেখেছিলাম। সাহিত্য ৩ মার্কের জন্য পৃষ্ঠা ভরে লেখার কিছু নাই। গ্রন্থ সমালোচনা সম্পাদকীয়
বিশেষ সংখ্যা+ ডাইজেস্ট দেখেছিলাম। রচনা ইংরেজি অংশে বলেছি।
#বাংলাদেশ: সংবিধান আর মুক্তিযুদ্ধ ভালো করে পড়েছিলাম। আরিফ খানের সংবিধান পড়েছিলাম।বাকিগুলো প্রতি চ্যাপ্টারের মেইন কয়েকটা প্রশ্ন পড়তাম। এতে পুরো অধ্যায়ের বিষয়বস্তু মাথায় ঢুকে যেত। ওভাবেই লিখে আসছি। টু দ্যা পয়েন্ট পড়তাম & লিখছিও তাই। কোন রকম সূচনা/উপসংহার লিখি নাই। অ্যাসিউরেন্স + প্রফেসরস পড়েছিলাম সাথে সম্পাদকীয়।
#আন্তর্জাতিক: কনসেপচুয়াল পার্ট টা ভালোভাবে পড়তাম। যদিও সব প্রশ্ন কমন আসতো না। অ্যাসিউরেন্স +প্রফেসরস দেখতাম। এম্পিরিকাল পার্ট গ্রুপে বিভিন্ন ইস্যু পিডিএফ করে দিত। ওগুলাই পড়তাম। সাথে অ্যাসিউরেন্স থেকে টুকটাক দেখতাম + সম্পাদকীয়। প্রাসঙ্গিক মানচিত্র দিতাম। প্রবলেম সলভিং অ্যাসিউরেন্স দেখেছিলাম।
#বিজ্ঞান: বিজ্ঞানের প্রশ্ন হয় ১/২, ১,২, মার্কের। কিন্তু ওরাকলে দেখতাম বেশ বড় করে উত্তর করা। মিলারস পড়েছিলাম। সাথে অ্যাসিউরেন্স ডাইজেস্ট। কম্পিউটার পার্ট মুজিবুর রহমানের ICT + ইজি কম্পিউটার + ডাইজেস্ট দেখেছিলাম। ইলেকট্রনিকস পার্ট শাহজাহান তপন + ডাইজেস্ট দেখেছিলাম।
প্রাসঙ্গিক লেখার চেষ্টা করবেন। টুকটাক সবাই উল্টাপাল্টা লিখে সব উত্তর করার জন্য। আমিও করেছি। তবে খেয়াল রাখবেন সেটা যেনো মোট নাম্বারের ১০% এর বেশি না হয়।
পত্রিকা পড়ার অভ্যাস কম ছিলো। তাই প্রতি মাসে সম্পাদকীয় পড়তাম।
অভিজ্ঞতা থেকে কিছু মূল উপদেশ:

গণিত: গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টার এবং গ্রন্থ থেকে নিয়মিত অনুশীলন করা। সঠিক গাইড বই ব্যবহার করা এবং মডেল প্রশ্ন সমাধান করা।

মানসিক দক্ষতা: বিগত বছরের প্রশ্ন এবং বিশেষ কিছু বই থেকে প্র্যাকটিস করা, যেমন ওরাকল এবং অ্যাসিউরেন্স ডাইজেস্ট।

ইংরেজি: ব্যাপক প্র্যাকটিসের মাধ্যমে ট্রান্সলেশন এবং রিট্রান্সলেশন, এবং রচনা প্রস্তুতির জন্য সঠিক টেকনিক ব্যবহার করা। গ্রুপের সহায়তা নিয়ে রচনা নোট তৈরি করা।

বাংলা: ব্যাকরণ এবং সাহিত্য অংশের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়ে ২৭-২৮ নাম্বার সংগ্রহ করা। এবং বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া বাংলা বানান, বাগধারা, বাক্য শুদ্ধি ও বাক্য পরিবর্তন প্রভৃতি।

বাংলাদেশ: সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধের বিষয়বস্তু বুঝে পড়া, এবং পদ্ধতিগতভাবে লিখা।

আন্তর্জাতিক: কনসেপচুয়াল পার্টের গভীর অধ্যয়ন এবং এম্পিরিকাল পার্টের জন্য গ্রুপ পিডিএফ এবং বইগুলো পড়া।

বিজ্ঞান: সঠিক বইয়ের মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে বিজ্ঞান বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা।

কিছু সাধারণ প্রশ্ন:

কত ঘণ্টা পড়তে হবে?

উত্তর: যতটুকু সময় লাগবে, ততটুকু পড়ুন। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সঠিকভাবে সময় ব্যয় করা এবং পড়াশোনা শেষে পুনরাবৃত্তি।

কোন বই পড়ব?

উত্তর: যে বই পড়লে আপনার কাছে ভালো লাগে এবং মনে রাখতে পারেন, সেই বই পড়ুন। নিজের অনুসন্ধান থেকে সঠিক বই বাছাই করা উচিত।

এ ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে যদি আপনি অনুশীলন চালিয়ে যান, তবে বিসিএস সহ অন্যান্য পরীক্ষায় সাফল্য আসবে! 

সবার জন্য শুভকামনা! ❤️
✍️ লেখা: মাহমুদুল হক।
সহকারী কর কমিশনার।
মেধাক্রম: ৪৭.
৪০ তম বিসিএস।


Post a Comment

Previous Next

نموذج الاتصال