দ্য থিওরি অব এভরিথিং (২০১৪) – এক প্রতিভা ও সংগ্রামের ভালোবাসার গল্প
মুভির গল্প (সারসংক্ষেপ)
দ্য থিওরি অব এভরিথিং বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং-এর জীবনীভিত্তিক একটি চলচ্চিত্র। এই মুভিটি তার প্রথম স্ত্রী জেইন হকিং-এর লেখা স্মৃতিকথা Traveling to Infinity: My Life with Stephen অবলম্বনে নির্মিত।
গল্পের শুরু ১৯৬০-এর দশকের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখানে তরুণ স্টিফেন হকিং একজন মেধাবী পদার্থবিদ হিসেবে নিজের প্রতিভা তুলে ধরেন। সেখানেই তার পরিচয় হয় জেইন ওয়াইল্ডের সঙ্গে, যিনি সাহিত্য ও শিল্পকলার ছাত্রী। তাদের প্রেম ধীরে ধীরে গভীর হয়, কিন্তু স্টিফেনের জীবন এক কঠিন বাঁকে চলে যায় যখন চিকিৎসকরা জানান যে তিনি মোটর নিউরন ডিজিজে (ALS) আক্রান্ত। চিকিৎসকদের মতে, তার মাত্র দুই বছর বাঁচার সম্ভাবনা ছিল।
জেইন ভালোবাসার বন্ধনে তাকে ছেড়ে না গিয়ে তার পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। স্টিফেনের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে, কিন্তু তার মেধা ও ইচ্ছাশক্তি অটুট থাকে। তিনি ব্ল্যাক হোল ও সময় সম্পর্কিত গবেষণায় অসাধারণ অবদান রাখেন এবং তার বিখ্যাত বই "A Brief History of Time" প্রকাশিত হয়, যা তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়।
মুভি রিভিউ
এই মুভিটি শুধুমাত্র স্টিফেন হকিং-এর বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার গল্প নয়, বরং এটি এক অসাধারণ ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও মানবিক জয়ের কাহিনি। এডি রেডমেইনের অভিনয় স্টিফেন হকিং চরিত্রে এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে তিনি অস্কার (Best Actor, 2015) জিতে নেন।
চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য ধীরগতির হলেও আবেগঘন। স্টিফেন ও জেইনের সম্পর্কের উত্থান-পতন, সংগ্রাম ও আলাদা হয়ে যাওয়ার দৃশ্যগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়। জোনাথান জোনসের আবহসংগীত মুভিটির আবেগকে আরও গভীর করে তোলে।
ফাইনাল ভিউ
যারা বায়োগ্রাফিক্যাল ড্রামা, প্রেমের গল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক কাহিনি পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই দেখা উচিত। মুভিটি আমাদের শেখায় যে জীবন যতই কঠিন হোক, ইচ্ছাশক্তি ও ভালোবাসার মাধ্যমে সব প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব।
রেটিং: ⭐⭐⭐⭐⭐ (9/10)
পরিচালক: জেমস মার্শ
অভিনয়: এডি রেডমেইন (স্টিফেন হকিং), ফেলিসিটি জোন্স (জেইন হকিং)